মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পারস্পরিক শিখন কার্যক্রম

পটভূমি ও মূল কার্যক্রমঃ

পারস্পিরিক শিখন কর্ম‌সূচি যার সমার্থক শব্দ Horizontal Learning Program সংক্ষেপে এইচএলপি একটি ফলাফল ভিত্তিক ‌'সমসাথী শিখন' কার্যক্রম যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) কর্তৃক বাস্তবায়িত।        

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ৭ম অধ্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করণ এবং পল্লী উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্ম পরিকল্পনা সূচারুরূপে বর্ণনা করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের ক্ষমতায়ন, সকলস্তরে জনঅংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করার প্রয়াসে সময়ে সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও মেয়াদান্তে ঐ সকল প্রকল্পের ভালো শিখনসমূহও হারিয়ে যায়। একমাত্র পারস্পরিক শিখন (এইচএলপি) এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ তার ভালো শিখনগুলো “নন্দিত অনুসন্ধান” (Appreciative Inquiry) এর মাধ্যমে নিজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। এইচএলপি কার্যক্রম স্থানীয় সরকারের ভালো শিখন ও চর্চাসমূহ চিহ্নিতকরণ, বিনিময় এবং রূপায়নের সার সংক্ষেপ বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত ফলাফল নীতি-নির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ (এলজিআই)-কে সক্ষম করে তোলে। পারস্পরিক শিখন কর্মসূচি বাংলাদেশ প্রথম শুরু করে। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সরকার ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ এইচএলপি প্রক্রিয়া শেখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন এবং পরে নিজ দেশে গিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। ইতোমধ্যে ভারতের মহারাষ্ট্র, তামিলনারু ও গুজরাট, ইরান, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিজি, এবং নেপালে এইচএলপি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ বিভিন্ন ইউনিয় পরিষদ তাদের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভালো শিখন কার্যক্রমে ব্যয় করেছে। এসকল ভালো শিখনের মধ্যে প্রায় ১৭৪টি ভালো শিখন বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে ৫৪টি সবচেয়ে ভালো শিখন হিসেবে সর্বাধিক পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছে (কোন একটি ভালো শিখন ৫০ বার বিভিন্ন স্থানে পুন:বাস্তবায়ন করা হয়ে তাকে সর্বাপেক্ষা ভালো শিখন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়)। এসকল ভালো শিখনগুলো থেকে প্রায় ২০ মিলিয়ন নাগরিক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও এ ৫৪টি সর্বাপেক্ষা ভালো শিখনগুলো নিয়ে জেলা পর্যায়ে থিমেটিক কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতি নির্ধারক মহলে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। তন্মধ্যে ৪টি সর্বপেক্ষা ভালো শিখনকে পরিপত্র আকারে জারী করা হয়। যেমন: ক) ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি (ইউডিসিসি), খ) প্রতিবন্ধী বান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ, গ) প্রতিবন্ধী বান্ধব পৌরসভা এবং ঘ) আর্সেনিক দূরীকরণে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা। 

সহায়তা প্রদান করবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৩৩টি জেলার ২০০টি উপজেলায় ১৫০টি পৌরসভা এবং ২০০০টি ইউনিয়ন পরিষদে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।

প্রকল্প এলাকা নির্ধারনে যৌক্তিকতা:

  • যেসকল জেলায় এইচএলপি কার্যক্রম শুরু থেকে অর্থাৎ ২০০৭ সাল থেকে চলমান;
  • যেসকল জেলায় সরকারী/দাতা সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভালো শিখনসমূহ ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে;
  • উল্লিখিত জেলাগুলোতে জেলা পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার মাধ্যমে সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আগ্রহী উপজেলা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে নির্বাচন করা হবে;
  • অনুরূপভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মশালার মাধ্যমে পৌরসভাগুলোকে নির্বাচন করা হবে।

তবে উভয় ক্ষেত্রেই পারস্পরিক শিখন কর্মসূচি’র সাথে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে জড়িত এবং ধারনা সম্বলিত এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: প্রকল্পটির মাধ্যমে এইচএলপি কার্যক্রমকে এনআইএলজি মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানিকিকরণ করা হবে যা পরবর্তিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো শিখনসমূহ চিহ্নিতকরণ, নির্বাচন, নিজস্ব বাজেটে বাস্তবায়ন, মূল্যায়ণ এবং পরিশেষে নীতি নির্ধারক মহলে উপস্থাপন করার স্বক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য

  • এইচএলপি প্রাতিষ্ঠানিকিকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এনআইএলজি’র বিভিন্ন ভালো শিখনগুলো চিহ্নিতকরণ ও বিশ্লেষণ উত্তর সংশ্লিষ্ট আইন/বিধি/পরিপত্র/নীতমালা প্রণয়নে সমক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
  • সার্বিকভাবে এইচএলপি কার্যক্রমের ম্যূলায়ণ এবং মান নিয়ন্ত্রণের মধ্যদিয়ে বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠির কল্যানে বিভিন্ন উদ্যোগের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। 
  • প্রাতমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের ন্যাশনাল বেসিক ক্যাপাসিটি প্রোগাম এর পুণপর্যালোচনা এবং আপডেট করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে যা পরবর্তিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সকল স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।​

ফলাফল:  ভিশন ২০২১ এবং উন্নতদেশ রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ভালো শিখন চিহ্নিতকরণ, বাস্তবায়ন এবং স্বমূল্যায়ণে সার্বিকভাবে স্বক্ষমতা অর্জনসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে। 

 

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

   

---------------------------------

 

 


Share with :

Facebook Facebook